সমাজকল্যাণ সুশাসন: যা জানলে আপনার সমাজের চিত্র পাল্টে যাবে

webmaster

사회복지 거버넌스 - **Prompt 1: Digital Empowerment for Elderly in Rural Bangladesh**
    "A serene and realistic depict...

আমরা সবাই তো চাই একটা সুন্দর, নিরাপদ আর সবার জন্য সুযোগভরা সমাজ, তাই না? কিন্তু বাস্তবে সমাজের প্রতিটি স্তরে সেই কল্যাণ পৌঁছে দেওয়াটা সহজ কাজ নয়। প্রায়ই দেখা যায়, যারা সবচেয়ে বেশি সাহায্যের প্রয়োজন অনুভব করেন, তাদের কাছেই সরকারি বা বেসরকারি সুযোগ-সুবিধাগুলো ঠিকমতো পৌঁছায় না। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, এই ব্যবধানটা কতটা দুঃখজনক হতে পারে। একটা সময় ছিল যখন ভাতার টাকা তুলতে গিয়ে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, তাতে ভোগান্তির শেষ ছিল না। কিন্তু এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অনেক কিছু বদলে যাচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই ভাতা পাওয়ার সুবিধা এসেছে, যা সত্যি দারুণ এক পরিবর্তন। তবে এর পাশাপাশি নতুন কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি হচ্ছে, যেমন ডিজিটাল বৈষম্য বা সঠিক মানুষকে খুঁজে বের করার জটিলতা। সুশাসন ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আজকের লেখায় আমরা সামাজিক কল্যাণের এই জটিল গোছানো প্রক্রিয়া, অর্থাৎ ‘সামাজিক কল্যাণ সুশাসন’ সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানবো। চলুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

사회복지 거버넌스 관련 이미지 1

কল্যাণমুখী সমাজে সুশাসনের প্রয়োজনীয়তা

ডিজিটাল প্রযুক্তির হাত ধরে আসা পরিবর্তন

আমরা সবাই চাই এমন একটা সমাজ যেখানে কেউ পেছনে পড়ে থাকবে না, সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে। কিন্তু এই স্বপ্ন পূরণ করাটা মোটেও সহজ নয়। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, সরকারি বা বেসরকারি নানান সুযোগ-সুবিধা থাকলেও, যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের কাছে সেগুলো ঠিকমতো পৌঁছানো কতটা কঠিন হতে পারে। একবার একটা গ্রামে গিয়েছিলাম, যেখানে একজন বয়স্ক মহিলা ভাতার টাকা তুলতে প্রায় সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার কষ্ট দেখে মনটা ভরে গিয়েছিল। তার মতো অনেকেই এমন ভোগান্তির শিকার হন। তবে আশার কথা হলো, আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন, তার কল্যাণে এখন অনেক কিছু পাল্টে যাচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই ভাতা পাওয়ার সুবিধা এসেছে, যা সত্যি দারুণ এক পরিবর্তন। এখন আর সেই লম্বা লাইন বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার দিন নেই। এই পরিবর্তনটা একদিকে যেমন স্বস্তিদায়ক, তেমনি অন্যদিকে কিছু নতুন চ্যালেঞ্জও নিয়ে এসেছে। যেমন, যারা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে ততটা অভ্যস্ত নন, তাদের জন্য নতুন করে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সঠিক মানুষকে খুঁজে বের করা, তাদের কাছে এই সুবিধাগুলো নির্ভুলভাবে পৌঁছে দেওয়া – এসবই সুশাসনের অভাবে জটিল হয়ে পড়ে। একটা কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে হলে এই সুশাসনের গুরুত্ব অপরিসীম, যা প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করে।

আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সুশাসনের প্রভাব

সুশাসন শুধু ভাতার টাকা বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। যখন একটি সিস্টেমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আর জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়, তখন সেই সমাজের প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। আমি দেখেছি, যখন কোনো প্রকল্পে স্থানীয় মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তখন সেই প্রকল্পের সফলতা অনেক বেশি হয়। এর কারণ হলো, তারা নিজেদের প্রয়োজনটা সবচেয়ে ভালো বোঝেন এবং সমাধানের অংশ হতে পারেন। অন্যদিকে, যদি সুশাসন না থাকে, তাহলে সম্পদ যেমন অপচয় হয়, তেমনি মানুষের মনে সিস্টেমের প্রতি অবিশ্বাস জন্ম নেয়। যখন দুর্নীতির খবর শুনি, তখন সত্যি খুব খারাপ লাগে, কারণ এই টাকাগুলো সমাজের সবচেয়ে দুর্বল মানুষের অধিকার। সঠিক মানুষের হাতে সঠিক সময়ে সুবিধা পৌঁছানো গেলে তা তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। এই কাজগুলো সঠিকভাবে হলে শুধু দারিদ্র্য বিমোচন নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচারও প্রতিষ্ঠা পায়, যা প্রতিটি মানুষের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করে।

ডিজিটাল রূপান্তর: সুযোগ এবং নতুন চ্যালেঞ্জ

প্রযুক্তির সুবিধা সকলের জন্য নিশ্চিতকরণ

প্রযুক্তি আমাদের জীবনে অনেক সুবিধা নিয়ে এসেছে, বিশেষ করে সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলোতে এর ব্যবহার নিঃসন্দেহে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। আমার মনে আছে, কয়েক বছর আগেও যখন গ্রামের মানুষ সরকারি ভাতা তুলতে ব্যাংকে যেতেন, তখন কতটা ভোগান্তির শিকার হতেন। প্রখর রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, দালালদের উৎপাত, টাকা পাওয়ার অনিশ্চয়তা—এসব ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। কিন্তু এখন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কল্যাণে ঘরে বসেই ভাতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটা সত্যি দারুণ একটা ব্যাপার!

ভাবুন তো, একজন বৃদ্ধ মানুষ বা একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, যাদের পক্ষে বাইরে যাওয়া কষ্টকর, তারা এখন নিজের মোবাইল ফোনেই টাকা পেয়ে যাচ্ছেন। এতে তাদের কষ্ট যেমন কমেছে, তেমনি সময়েরও সাশ্রয় হচ্ছে। তবে এই সুবিধা সবার কাছে পৌঁছানো এখনও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের দেশে এখনও অনেক মানুষ আছেন যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করতে জানেন না, ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত, অথবা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়াটি তাদের কাছে জটিল মনে হয়। তাই প্রযুক্তির এই সুবিধাগুলোকে এমনভাবে সহজলভ্য করতে হবে, যাতে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ, বিশেষ করে যারা সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে, তারাও এর সুফল ভোগ করতে পারে। কেবল শহরের সুবিধাভোগীরা নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও যেন এই ডিজিটাল সুবিধার আওতায় আসে, সেদিকে আমাদের নজর দিতে হবে।

Advertisement

সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ

ডিজিটাল রূপান্তরের সুফল সবার কাছে পৌঁছাতে হলে শুধু প্রযুক্তি দিলেই হবে না, বরং এর সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে। আমার নিজের চোখে দেখা অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, অনেক সময় দেখেছি, বয়স্ক মানুষরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু কিভাবে সেটা ব্যবহার করতে হয় বা কোথায় টাকা তোলা নিরাপদ, তা নিয়ে তাদের স্পষ্ট ধারণা নেই। এতে করে তারা প্রতারণার শিকার হন বা অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারি এবং বেসরকারি উভয় পর্যায় থেকে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। যেমন, গ্রামেগঞ্জে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালানো যেতে পারে, যেখানে হাতে-কলমে দেখানো হবে কিভাবে ভাতা গ্রহণ করতে হয় বা টাকা তুলতে হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যায়, যাতে তরুণ প্রজন্ম তাদের পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের সহায়তা করতে পারে। রেডিও, টেলিভিশন বা স্থানীয় মাইকিংয়ের মাধ্যমেও প্রচার চালানো যেতে পারে, যাতে সবাই সহজেই তথ্য পায়। যখন মানুষকে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে ভালোভাবে শেখানো যাবে এবং তাদের মনে আস্থা তৈরি হবে, তখনই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পুরোপুরি সার্থক হবে।

সঠিক সুবিধাভোগী চিহ্নিতকরণের জটিলতা

তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ

সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে একটি হলো সঠিক সুবিধাভোগী নির্বাচন করা। এটা শুনতে সহজ মনে হলেও বাস্তবে এর চেয়ে কঠিন কাজ আর নেই। আমার নিজের দেখা অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, প্রায়শই দেখা যায়, যারা সত্যিই সরকারি ভাতার যোগ্য, তারা হয়তো তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছেন, আর যাদের প্রয়োজন নেই, তারা ঠিকই সুবিধা ভোগ করছেন। এর মূল কারণ হলো তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা। গ্রামেগঞ্জে যখন তালিকা তৈরি হয়, তখন অনেক সময় দেখা যায়, কিছু মানুষ ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তালিকায় নিজেদের নাম ঢুকিয়ে নেন। আবার অনেক সময় প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে বা যাচাই-বাছাইয়ের সঠিক পদ্ধতির অভাবে যোগ্য ব্যক্তিরা বাদ পড়ে যান। একবার এক বয়স্ক মহিলা আমার কাছে এসে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন, কারণ তার সমস্ত কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও তিনি গত তিন মাস ধরে ভাতা পাচ্ছেন না, অথচ তার প্রতিবেশী, যার আর্থিক অবস্থা ভালো, সে নিয়মিত ভাতা পাচ্ছে। এই ধরনের ঘটনাগুলো সত্যিই দুঃখজনক এবং সিস্টেমের প্রতি মানুষের বিশ্বাস কমিয়ে দেয়।

ভুল ত্রুটি ও দুর্নীতি রোধে পদক্ষেপ

এই ভুল ত্রুটি এবং দুর্নীতি রোধ করা সামাজিক কল্যাণ সুশাসনের জন্য অপরিহার্য। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, শুধু বিধবা ও বয়স্ক ভাতা খাতে বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে, কারণ ৪৬ শতাংশ অযোগ্য ব্যক্তি এই সুবিধা ভোগ করছেন। এটা জানার পর আমার মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে গিয়েছিল। ভাবুন তো, এই বিশাল অঙ্কের টাকা যদি প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছাতো, তাহলে কত মানুষের জীবন বদলে যেত!

এই পরিস্থিতি বদলাতে হলে আমাদের কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন, সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরির প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে হবে, ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডারকে নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, যারা এই তালিকা তৈরির দায়িত্বে আছেন, তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। যদি কেউ অনিয়ম করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণকেও সচেতন করতে হবে, যাতে তারা কোনো অনিয়ম দেখলে দ্রুত অভিযোগ জানাতে পারে। যখন এই প্রক্রিয়াগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হবে, তখনই আমরা একটি সত্যিকারের কল্যাণমুখী সমাজ গড়ার দিকে এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারব।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: সুশাসনের মূল ভিত্তি

Advertisement

তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা

একটি কার্যকর সামাজিক কল্যাণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা অপরিহার্য। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, যখন কোনো সরকারি সেবার তথ্য সহজলভ্য থাকে না, তখন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কত বাড়ে। ভাতার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া কী, কারা যোগ্য, কত টাকা পাওয়া যাবে, কখন পাওয়া যাবে—এসব তথ্য যদি পরিষ্কারভাবে জানানো না হয়, তাহলে মানুষ দালালদের খপ্পরে পড়ে এবং হয়রানির শিকার হয়। আমি দেখেছি, অনেক সময় কিছু অসাধু লোক এই তথ্যের অভাবকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেয়। এটা দেখে আমার খুব রাগ হয়, কারণ সমাজের দুর্বলতম মানুষগুলোই এদের শিকার হন। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা মানে হলো, প্রত্যেক নাগরিকের কাছে তাদের প্রাপ্য অধিকার এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য পৌঁছে দেওয়া। এর জন্য সরকারি ওয়েবসাইট, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, এমনকি মোবাইল বার্তার মাধ্যমেও এই তথ্যগুলো নিয়মিত প্রকাশ করা উচিত। যখন মানুষ জানবে, তাদের অধিকার কী, তখনই তারা সেই অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে পারবে।

জনগণের অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা

স্বচ্ছতা যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি হলো জনগণের অভিযোগ দ্রুত এবং কার্যকরভাবে নিষ্পত্তি করার একটি ব্যবস্থা। কারণ, যতই ভালো সিস্টেম তৈরি করা হোক না কেন, কিছু না কিছু সমস্যা থেকেই যায়। আমি শুনেছি, অনেক সময় ভাতার টাকা নিয়ে জটিলতা হলে মানুষ কোথায় অভিযোগ করবে, বা কার কাছে যাবে, তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। সঠিক অভিযোগ জানানোর প্ল্যাটফর্ম না থাকায় তাদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। একবার একজন মহিলা তার ভাতার টাকা অন্য কারো মোবাইলে চলে যাওয়ায় মাসের পর মাস ঘুরেছেন, কিন্তু কোনো সমাধান পাননি। এমন ঘটনাগুলো মানুষের মনে হতাশা তৈরি করে। তাই এমন একটি শক্তিশালী অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারবে এবং দ্রুত তার সমাধান পাবে। এর জন্য একটি হটলাইন, অনলাইন পোর্টাল বা স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ বক্সের মতো ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, অভিযোগ পাওয়ার পর তার দ্রুত তদন্ত এবং প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। যখন মানুষ দেখবে যে তাদের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং সমস্যা সমাধান হচ্ছে, তখনই সিস্টেমের প্রতি তাদের বিশ্বাস ফিরবে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া: মানুষের ক্ষমতায়ন

স্থানীয় সরকার ও কমিউনিটির ভূমিকা

সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলোর সাফল্য বহুলাংশে নির্ভর করে স্থানীয় সরকার এবং কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর। আমার নিজের কাজ করতে গিয়ে আমি উপলব্ধি করেছি, সরকারি নীতি যতই ভালো হোক না কেন, যদি স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের অংশগ্রহণ না থাকে, তবে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে না। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা এলাকার মানুষের সমস্যা এবং চাহিদা সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। তাই তাদের এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করাটা খুবই জরুরি। একবার একটি গ্রামে দেখেছি, একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নিজেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি করছিলেন, এতে অনিয়মের মাত্রা অনেক কমে গিয়েছিল। যখন স্থানীয় মানুষ মনে করে যে এটা তাদের নিজেদের কর্মসূচি, তখন তারা এর সফলতা নিশ্চিত করতে নিজেরাই এগিয়ে আসে। কমিউনিটি মিটিংয়ের আয়োজন করে মানুষের মতামত নেওয়া, তাদের পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া – এসবই অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। এতে করে কেবল সঠিক মানুষকে চিহ্নিত করাই নয়, বরং বিতরণ প্রক্রিয়াতেও স্বচ্ছতা আসে।

নীতি নির্ধারণে জনগণের মতামত

শুধু বাস্তবায়ন পর্যায়ে নয়, নীতি নির্ধারণ পর্যায়েও জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ, নীতিগুলো তো সমাজের মানুষের জন্যই তৈরি করা হয়। আমার মনে হয়, যখন কোনো নীতি তৈরি হয়, তখন যদি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে আলোচনা করে তাদের মতামত নেওয়া হয়, তাহলে সেই নীতি আরও বেশি বাস্তবসম্মত এবং কার্যকর হয়। বিশেষ করে যারা এই সুবিধাগুলো ভোগ করবেন, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানাটা খুবই জরুরি। একবার একটি কর্মশালায় আমি দেখেছি, গ্রামের মহিলারা তাদের ভাতার টাকা কীভাবে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারেন, সে সম্পর্কে অনেক মূল্যবান পরামর্শ দিচ্ছিলেন। তাদের সেই মতামতগুলো যদি নীতি নির্ধারণে প্রতিফলিত হয়, তাহলে তা শুধু মানুষের ক্ষমতায়নই করবে না, বরং তাদের মধ্যে এক ধরনের মালিকানা বোধও তৈরি করবে। যখন মানুষ অনুভব করে যে তাদের কথা শোনা হচ্ছে এবং তাদের মতামতের কদর করা হচ্ছে, তখন তারা সিস্টেমের অংশ হতে আরও বেশি উৎসাহিত হয়। এই অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া সুশাসনকে মজবুত করে এবং একটি টেকসই কল্যাণমূলক সমাজ গঠনে সাহায্য করে।

সামাজিক কল্যাণ সুশাসনের মূল উপাদান

নীতি ও পদ্ধতির স্পষ্টতা

সামাজিক কল্যাণ সুশাসন বলতে আমরা যা বুঝি, তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো নীতি ও পদ্ধতির স্পষ্টতা। আমার অভিজ্ঞতা বলে, যখন কোনো কর্মসূচি বা সেবার নিয়মকানুন অস্পষ্ট থাকে, তখন তা মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ, কোন ভাতার জন্য কারা যোগ্য, আবেদনের প্রক্রিয়া কী, কত দিনের মধ্যে ফলাফল জানা যাবে – এই বিষয়গুলো যদি পরিষ্কারভাবে জানানো না হয়, তাহলে মানুষ জানে না কী করতে হবে এবং কার কাছে যেতে হবে। আমি দেখেছি, অনেক সময় অস্পষ্ট নিয়মের কারণে অযোগ্য ব্যক্তিরা সুবিধা পেয়ে যান, আর যোগ্য ব্যক্তিরা বঞ্চিত হন। এটা দেখে খুব কষ্ট লাগে। তাই প্রতিটি সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির জন্য সুস্পষ্ট নীতি এবং সহজবোধ্য পদ্ধতি তৈরি করা আবশ্যক। এই নীতিগুলো এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন একজন সাধারণ মানুষও সহজেই বুঝতে পারে। সরকার ইতিমধ্যেই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ কোটি লোককে বিভিন্ন প্রকার ভাতা ও অনুদান প্রদান করে থাকে, তাই এই বৃহৎ পরিসরের কার্যক্রমে স্পষ্টতা আনা জরুরি।

প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং ডেটা নিরাপত্তা

আধুনিক যুগে সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং ডেটা নিরাপত্তার কোনো বিকল্প নেই। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতা বিতরণের ফলে ভোগান্তি কমলেও, ডেটা নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আমাকে সবসময়ই ভাবতে হয়। কারণ, লাখ লাখ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য এই সিস্টেমে জমা থাকে, যা অত্যন্ত সংবেদনশীল। যদি এই ডেটা সুরক্ষিত না থাকে, তাহলে তা অপব্যবহার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আমি শুনেছি, অনেক সময় মানুষের অজান্তেই তাদের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে বা অন্য কোনো কৌশলে ভাতা আত্মসাৎ করার ঘটনা ঘটে। এতে করে মানুষ আর্থিক ক্ষতির শিকার হয় এবং সিস্টেমের প্রতি আস্থা হারায়। তাই শুধু একটি শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করলেই হবে না, বরং এই প্ল্যাটফর্মের ডেটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে। এতে যেমন শক্তিশালী সার্ভার, ডেটা এনক্রিপশন এবং নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে, তেমনি মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। যখন মানুষ জানতে পারবে যে তাদের তথ্য সুরক্ষিত, তখনই তারা ভরসা করে এই ডিজিটাল সেবাগুলো গ্রহণ করবে।

উপাদান বিবরণ
স্বচ্ছতা সমস্ত তথ্য সবার জন্য সহজলভ্য রাখা, যাতে সুবিধাভোগীরা তাদের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারে এবং সিস্টেমের কার্যকারিতা বুঝতে পারে।
জবাবদিহিতা যারা সুবিধা বিতরণ করে, তাদের কাজের জন্য দায়বদ্ধ রাখা এবং যেকোনো অনিয়মের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সক্ষমতা সঠিকভাবে সুবিধা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং কার্যকর পদ্ধতির সংস্থান নিশ্চিত করা।
অংশগ্রহণ নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে সুবিধাভোগী ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, যাতে তাদের চাহিদাগুলো প্রতিফলিত হয়।
ন্যায়পরায়ণতা সুবিধা বিতরণে কোনো বৈষম্য না করে সবার প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত অভাবী ও যোগ্য ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া।
Advertisement

ভবিষ্যতের পথ: টেকসই কল্যাণমুখী সমাজ

사회복지 거버넌스 관련 이미지 2

নিয়মিত মূল্যায়ন ও সংশোধন

একটি টেকসই কল্যাণমুখী সমাজ গড়ার জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো আমাদের সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলোকে নিয়মিত মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনে তাতে সংশোধন আনা। আমার মনে হয়, কোনো কর্মসূচি শুরু করে দিলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না, বরং নিয়মিত দেখতে হয় এটি কতটা কার্যকর হচ্ছে, মানুষের কাছে এর সুফল কতটা পৌঁছাচ্ছে। একবার আমি একটি ছোট জনসভায় গিয়েছিলাম, যেখানে সরকারি একটি প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা তাদের অভিজ্ঞতা জানাচ্ছিলেন। অনেকেই বললেন যে কিছু কিছু নিয়ম তাদের জন্য আসলে উপকারের চেয়ে ভোগান্তিই বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই ধরনের ফিডব্যাকগুলো শোনা এবং সে অনুযায়ী কাজ করাটা খুবই জরুরি। যদি আমরা নিয়মিতভাবে কর্মসূচিগুলোর দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করি এবং সেগুলো ঠিক করার চেষ্টা করি, তাহলে ধীরে ধীরে একটি নিখুঁত সিস্টেম তৈরি করা সম্ভব। এতে করে শুধুমাত্র অর্থের অপচয়ই কমবে না, বরং প্রকৃত মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। যখন আমরা ভুল থেকে শিখব এবং সেগুলোকে শুধরে নেব, তখনই আমাদের কল্যাণমুখী সমাজের ভিত্তি আরও মজবুত হবে।

আন্তর্জাতিক সেরা অনুশীলন থেকে শিক্ষা

বিশ্বের অন্যান্য দেশ কীভাবে সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো পরিচালনা করছে, তাদের সেরা অনুশীলনগুলো কী, তা থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। আমরা কেন শুধু নিজেদের ভুল থেকে শিখব?

অন্য দেশগুলো যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, সেখান থেকে শিক্ষা নিলে আমরা অনেক দ্রুত এগিয়ে যেতে পারব। আমি নিয়মিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন পড়ি, যেখানে দেখি কিছু দেশ তাদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছে। যেমন, কিছু দেশ ডেটা অ্যানালাইসিস ব্যবহার করে খুব নিখুঁতভাবে সুবিধাভোগী নির্বাচন করছে, আবার কিছু দেশ প্রযুক্তির এমন উদ্ভাবনী ব্যবহার করছে যা মানুষকে ঘরে বসেই সব সুবিধা পাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। এসব দেখে আমার মনে হয়, আমাদেরও উচিত এই অভিজ্ঞতাগুলোকে কাজে লাগানো। তবে, শুধু অনুকরণ করলেই হবে না, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট, সংস্কৃতি এবং মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোকে মানিয়ে নিতে হবে। যখন আমরা নিজেদের দেশের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সমাধানগুলো খুঁজে বের করতে পারব, তখনই একটি আধুনিক এবং টেকসই সামাজিক কল্যাণ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত সমাজ নিশ্চিত করবে।

লেখা শেষ করছি

আজ আমরা কল্যাণমুখী সমাজে সুশাসনের অপরিহার্যতা নিয়ে অনেক কথা বললাম। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, শুধুমাত্র নিয়ম তৈরি করলেই হবে না, সেগুলোকে মানুষের জন্য সহজবোধ্য করে তুলতে হবে এবং প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধাগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে আমরা যেমন অনেক এগিয়ে যাচ্ছি, তেমনি এর সাথে জড়িত চ্যালেঞ্জগুলোকেও গুরুত্ব সহকারে মোকাবিলা করতে হবে। যখন প্রতিটি নাগরিক অনুভব করবে যে তারা সিস্টেমের অংশ এবং তাদের কথা শোনা হচ্ছে, তখনই একটি সত্যিকারের কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে উঠবে। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই স্বপ্ন একদিন পূরণ হবেই, এই বিশ্বাস নিয়েই আজকের লেখা শেষ করছি।

Advertisement

কিছু দরকারী তথ্য যা আপনার জানা উচিত

১. আপনার প্রাপ্য সরকারি সুবিধা সম্পর্কে জানতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।

২. ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং পিন বা ব্যক্তিগত তথ্য কারো সাথে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

৩. যেকোনো সরকারি পরিষেবা পেতে দালাল বা মধ্যস্থতাকারীদের এড়িয়ে চলুন এবং সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করুন।

৪. ভাতার তালিকা বা অন্যান্য তথ্যে কোনো অনিয়ম দেখলে দ্রুত অভিযোগ জানানোর হটলাইন বা অনলাইন পোর্টালে অবহিত করুন।

৫. প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখতে স্থানীয় ডিজিটাল সেন্টার বা প্রশিক্ষণের সুযোগগুলো কাজে লাগান, এতে আপনি নিজেই স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির সারসংক্ষেপ

একটি কল্যাণমুখী সমাজ গড়তে সুশাসনই মূল ভিত্তি। এর জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার যেখানে সুবিধা বাড়াচ্ছে, সেখানে ডেটা নিরাপত্তা ও সবার জন্য প্রযুক্তির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। সঠিক সুবিধাভোগী চিহ্নিতকরণ এবং দুর্নীতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক। স্থানীয় সরকার এবং কমিউনিটির ভূমিকাকে শক্তিশালী করা, এবং নীতি নির্ধারণে সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হলে একটি টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: সামাজিক কল্যাণ সুশাসন আসলে কী এবং কেন এটা আমাদের সবার জন্য এত জরুরি?

উ: আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, সামাজিক কল্যাণ সুশাসন মানে হলো সরকারি বা বেসরকারি যে কোনো সামাজিক সুবিধা, যেমন – ভাতা, অনুদান, শিক্ষা বা স্বাস্থ্যসেবা – সেগুলো যেন ঠিক মানুষের কাছে, সঠিক সময়ে এবং কোনো রকম অনিয়ম ছাড়াই পৌঁছায়। এটা কেবল কিছু নিয়মকানুনের সমষ্টি নয়, এটা একটা পুরো প্রক্রিয়া যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আর মানুষের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ধরুন, আগে দেখতাম ভাতার টাকা তুলতে গিয়ে মানুষকে কত ঝামেলা পোহাতে হতো, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, দালালদের উৎপাত—সবকিছু মিলে একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ। কিন্তু সুশাসন থাকলে এই ভোগান্তিগুলো অনেকাংশেই কমে যায়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে ধনী-গরিবের বৈষম্য কমানো, দুর্বল ও অসহায় মানুষদের একটা সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা। যখন সমাজে সুশাসন থাকে, তখন সবাই জানে যে তাদের অধিকার সুরক্ষিত এবং প্রয়োজনে তারা সরকারের সহায়তা পাবে। এর মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নতি যেমন হয়, তেমনি ব্যক্তিগত জীবনেও স্বস্তি আসে। আমি দেখেছি, যখন একটা পরিবার ঠিকমতো তাদের ভাতার টাকা পায়, তখন সেই টাকা দিয়ে হয়তো বাচ্চাদের পড়াশোনা চলে, অসুস্থতার চিকিৎসা হয় বা ছোট একটা ব্যবসা শুরু হয় – যা তাদের জীবনযাত্রার মান অনেকটা বদলে দেয়। তাই, একটা সুন্দর ও স্থিতিশীল সমাজ গড়তে সামাজিক কল্যাণ সুশাসন অপরিহার্য।

প্র: মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মতো প্রযুক্তি কীভাবে সামাজিক কল্যাণে সুশাসন আনতে সাহায্য করছে, আর এর সাথে নতুন কী ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে?

উ: সত্যি বলতে কী, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তি সামাজিক কল্যাণমূলক পরিষেবা বিতরণে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। আমার তো মনে হয়, একসময়কার সেই ভোগান্তি কমাতে এর জুড়ি নেই। আগে যেখানে ভাতার টাকা বা অন্যান্য সুবিধা পেতে মানুষকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো, এখন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কল্যাণে সেই টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে চলে আসছে। এতে দুর্নীতির সুযোগ কমেছে, সময়ের অপচয় রোধ হয়েছে এবং স্বচ্ছতা অনেক বেড়েছে। সুবিধাভোগী ঘরে বসেই তার টাকা পেয়ে যাচ্ছেন, যা তাদের সম্মানবোধও বাড়ায়। আমি নিজে দেখেছি, অনেক প্রবীণ মানুষ বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যারা আগে বাইরে যেতে পারতেন না, তারা এখন খুব সহজেই এই সুবিধা ভোগ করছেন।তবে এর সাথে কিছু নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে, যা অস্বীকার করা যায় না। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ডিজিটাল বৈষম্য। আমাদের দেশে এখনও অনেক মানুষ আছেন যাদের স্মার্টফোন ব্যবহারের জ্ঞান নেই, এমনকি অনেকের কাছে ফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগও নেই। এর ফলে যারা প্রযুক্তির সুবিধা নিতে পারছেন না, তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া, সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও কিছু উদ্বেগ থাকে; যেমন, ভুল নম্বরে টাকা চলে যাওয়া বা হ্যাকিংয়ের ভয়। সঠিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা এবং তাদের তথ্য সুরক্ষিত রাখাও একটা বড় কাজ। আমি একবার শুনেছিলাম, এক বয়স্ক মহিলা তার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের পিন ভুলে গিয়ে অনেক সমস্যায় পড়েছিলেন। তাই প্রযুক্তির সুবিধা যেমন দারুণ, তেমনি এর সাথে আসা এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্যও আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

প্র: একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা কীভাবে সামাজিক কল্যাণ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারি?

উ: আমরা অনেকেই ভাবি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা বোধহয় শুধু সরকার বা বড় বড় কর্মকর্তাদের কাজ। কিন্তু আমি আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছি, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেও আমাদের অনেক কিছু করার আছে। এটা একটা সম্মিলিত প্রচেষ্টা। প্রথমত, আমাদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কী কী সামাজিক কল্যাণমূলক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং সেগুলো পাওয়ার যোগ্যতা কী, তা আমাদের জানতে হবে। এরপর, যদি আমরা দেখি কোথাও কোনো অনিয়ম হচ্ছে, যেমন – কেউ ভাতার টাকা আত্মসাৎ করছে বা যোগ্য ব্যক্তি সুবিধা পাচ্ছে না, তাহলে নির্ভয়ে সেটার প্রতিবাদ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। অনেক সময় আমরা ভয়ে বা ঝামেলা এড়ানোর জন্য চুপ থাকি, কিন্তু এই নীরবতা দুর্নীতিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।দ্বিতীয়ত, আমাদের চারপাশে যারা প্রযুক্তির ব্যবহার জানেন না, বিশেষ করে বয়স্ক বা নিরক্ষর মানুষ, তাদের মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল পরিষেবা সম্পর্কে শেখাতে পারি। এটা এক ধরনের সামাজিক দায়িত্ব, যা ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে সাহায্য করবে। তৃতীয়ত, বিভিন্ন স্থানীয় কমিটি বা সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারি, যেখানে সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে আমাদের মতামত জানানো, পর্যবেক্ষণ করা – এগুলোও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মনে রাখবেন, আমাদের ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই কিন্তু সমাজে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আমি বিশ্বাস করি, আমরা যদি সবাই মিলে সচেতন থাকি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলি, তবেই একটি সত্যিকারের কল্যাণমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement